কন্টেন্ট রাইটিং কি? কিভাবে কন্টেন্ট রাইটিং শিখবেন?

বর্তমানে প্রায় ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য‌ই কন্টেন্ট প্রয়োজন হয়। সব কিছুই কন্টেন্ট নির্ভর হয়ে যাচ্ছে, ভালো কন্টেন্ট ছাড়া মার্কেটে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভালো কন্টেন্ট দ্বারা অধিক পরিমাণে অডিয়েন্স বৃদ্ধি করা যায়। তাই দিন দিন কন্টেন্ট রাইটারদের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনি যদি ভালো কন্টেন্ট তৈরি করতে পারেন, তাহলে খুব সহজেই অনলাইনে কিংবা অফলাইনে আয় করতে পারবেন। অনান্য দক্ষতা দিয়ে কাজ পাওয়া কঠিন হলেও কন্টেন্ট রাইটিং এর কাজ পাওয়া অনেক সহজ। তাই আজকের আর্টিকেলে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব, কন্টেন্ট রাইটিং কি এবং কিভাবে কন্টেন্ট রাইটিং শিখে আয় করতে পারবেন?

কন্টেন্ট কি?

বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আমরা যেসব আর্টিকেল পড়ি, ফেসবুক যেসব কথাবার্তা লিখে পোস্ট করি, ইউটিউবে আমরা যেসব ভিডিও দেখি, রেডিওতে যা কিছু শুনি সেগুলোই হলো কন্টেন্ট। অর্থাৎ কোন ধরনের বিবরণের মাধ্যমে যখন কোন বস্তুর সম্পর্কে তুলে ধরা হয় সেটাকেই কন্টেন্ট বলে। ইন্টারনেট আসার পূর্বে আমরা টিভিতে ভিডিও দেখতাম, ক্যাসেটে অডিও শুনতাম, পত্র-পত্রিকা কিংবা ব‌ই পড়তাম, পোষ্টারে কোন ইভেন্ট অথবা বিজ্ঞাপন দেখতাম এগুলোর সবই হলো কন্টেন্ট। বর্তমানে ইন্টারনেটের কল্যাণে কন্টেন্ট ডিজিটাল রুপে প্রকাশ করা যায়, তাই মানুষ এখন মানুষ ডিজিটাল কনটেন্টের প্রতি বেশি ঝুঁকেছে। আপনি যে এখন এই লেখাটি পড়ছেন এটাও একটি কন্টেন্ট।

আরো পড়ুন :

কন্টেন্ট কত প্রকার?

কন্টেন্ট সাধারণত চার প্রকার যথা:

অডিও

যখন কোন শব্দ, সুর কিংবা কথা বলে সেটা রেকর্ড অথবা সরাসরি প্রচার করে তখন সেটাকে অডিও কন্টেন্ট বলে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মিউজিক প্লেয়ারে আমরা যেসব অডিও শুনি, রেডিওতে প্রচারিত কোন ইভেন্ট বা প্রোগ্রাম শুনি এগুলো হলো অডিও কন্টেন্ট।

ভিডিও

যখন কোন ক্যামেরা অথবা কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করে চলমান চিত্র ধারণ করে প্রকাশ করা হয় তখন সেটাকে ভিডিও কন্টেন্ট বলে। যেমন, ইউটিউবে আমরা যেসব ভিডিও দেখি, কিংবা টিভিতে বা সিনেমা হলে যা কিছু দেখি তার সব‌ই হলো ভিডিও কন্টেন্ট।

ইমেজ

যখন কোন বিষয়কে চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় তখন সেটাকে ইমেজ কন্টেন্ট বলা হয়। যেমন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি স্যোশাল মিডিয়ায় যেসব ছবি দেখেন সেগুলো ইমেজ কন্টেন্ট। ইমেজ কন্টেন্টের বৈশিষ্ট্য হলো চিত্রের মধ্যে এমন কোন মেসেজ থাকতে হবে যা দ্বারা কোন কিছুকে নির্দেশ করে।

টেক্সট

কোন ধরনের লেখা যা পাঠ করা যায় তাকে টেক্সট কন্টেন্ট বলে। যেমন, ব্লগ পোস্ট, নিউজপেপার, ব‌ইপত্র ইত্যাদি হলো টেক্সট কন্টেন্ট।


আরো পড়ুন :

কন্টেন্ট রাইটার কাকে বলে?

উপরের আলোচনায় আমরা কন্টেন্ট সম্পর্কে জানলাম। এবার আসি কন্টেন্ট রাইটার কাকে বলে? যে ব্যক্তি অডিও, ভিডিও, ইমেজ কিংবা টেক্সট এর মাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরি করে তাকে কন্টেন্ট রাইটার বলে। আমি যেহেতু আপনাদের জন্য এই আর্টিকেলটি লিখছি, তাই আমাকেও কন্টেন্ট রাইটার বলা যাবে।

কিভাবে কন্টেন্ট রাইটিং শিখবেন?

কন্টেন্ট রাইটিং শিখতে চাইলে বা কন্টেন্ট রাইটার হতে চাইলে যে বিষটিকে প্রাধান্য দিতে হবে সেটা হলো চর্চা। নিয়মিত চর্চা না করলে আপনি কন্টেন্ট রাইটার হতে পারবেন না। এছাড়াও যে বিষয়গুলো অনুশীলন করতে হবে সেগুলো হলো

পড়া

কন্টেন্ট লিখতে চাইলে আপনাকে প্রচুর পরিমাণ পড়তে হবে। আপনি যতো বেশি পড়বেন, ততো বেশি জানতে পারবেন। তাই আপনার জন্য লেখা সহজ হয়ে যাবে। আপনি যে বিষয়ে লিখতে চান সে বিষয়ক ব‌ই, নিবন্ধ, ব্লগ পোস্ট ইত্যাদি পড়তে হবে। তাহলে আপনার জন্য কন্টেন্ট তৈরি করা সহজ হবে। 

লেখা

আপনাকে প্রতিদিন কিছু না কিছু লিখতে হবে। প্রথম প্রথম হয়তো আপনার লেখা ভালো হবে না কিংবা বেশি লিখতে পারবেন না, তবুও লিখতে হবে। লেখার জন্য আপনি প্রথমে সহজ টপিকগুলো নিয়ে লিখতে পারেন, যেমন,

নিজের সম্পর্কে, পরিবার সম্পর্কে, প্রিয় বন্ধু

ইত্যাদি সহজ টপিকের উপর লেখা শুরু করতে পারেন। প্রথম এক মাস ১০০ শব্দের আর্টিকেল লিখবেন, পরবর্তী মাসে ২০০ শব্দ, পরের মাসে ৫০০ শব্দ এভাবে ধীরে ধীরে শব্দ সংখ্যা বাড়াবেন। এভাবে চর্চা চালিয়ে গেলে এক সময় দেখতে পারবেন, আপনি খুব সহজেই ২০০০ শব্দের আর্টিকেল লিখতে পারছেন।

রিসার্স

কোন বিষয়ে লেখার আগে সেটা নিয়ে রিসার্স করে নিবেন। বিভিন্ন ব্লগপোষ্ট, উইকিপিডিয়া, ব‌ই, সংবাদপত্র ইত্যাদি ঘেঁটে আসল তথ্য জেনে নিবেন। নিজের চিন্তা শক্তি ব্যবহার করে যাচাই বাছাই করবেন, কোন তথ্য সঠিক আর কোন তথ্য ভুল। এভাবে রিসার্স করে আর্টিকেল লিখবেন।

কিভাবে কন্টেন্ট রাইটিং করে আয় করবেন?

কন্টেন্ট রাইটার হতে পারলে টাকা আয় করা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না, আপনি বিভিন্ন ভাবে টাকা আয় করতে পারবেন যেমন :

ব্লগিং

কন্টেন্ট লিখতে পারলে আপনি নিজে একটি ব্লগ খোলে অ্যাডসেন্স অথবা ভিন্ন কোন উপায়ে আয় করতে পারবেন। নিজের ব্লগ না থাকলে অন্যের ব্লগে লিখেও আয় করতে পারবেন। এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে যাদের আর্টিকেল লিখে দিলে টাকা প্রদান করে। আপনি চাইলে আমার এই ব্লগে লিখেও আয় করতে পারবেন, আমার ব্লগে লিখে আয় করতে চাইলে contact us পেজ থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করুন।

চাকরি

আপনি কন্টেন্ট রাইটিং এর পারদর্শী হলে চাকরি করে আয় করতে পারবেন। অনেক কন্টেন্ট রাইটিং এজেন্সি আছে যেখানে কন্টেন্ট রাইটার হায়ার করা হয়।


আরো পড়ুন :

ফ্রিল্যান্সিং

কন্টেন্ট রাইটিং শেখার পর আপনি ইচ্ছে করলে ফাইবার, ফ্রিল্যান্সার, আপ‌ওয়ার্ক ইত্যাদি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সেখানে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের কন্টেন্ট লিখে বেশ ভালো টাকা আয় করতে পারবেন। তবে এজন্য আপনাকে লেগে থাকতে হবে।

পত্রিকায় লেখা বা ব‌ই প্রকাশ

আপনার লেখা ভালো হলে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করে আয় করতে পারবেন তাছাড়াও চাইলে আপনি নিজে কোন ব‌ই প্রকাশ করে আয় করতে পারবেন।

কন্টেন্ট রাইটিং এর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু টিপস

  • কোন টপিকের উপর কন্টেন্ট লিখতে চাইলে সেই টপিক ভালো ভাবে জানতে হবে। প্রয়োজনে সেই বিষয়ে অনান্য আর্টিকেলগুলো পড়বেন।
  • আর্টিকেলের প্রথম বাক্যগুলো এমন ভাবে লিখতে হবে যেন অডিয়েন্স পুরো আর্টিকেলটি পড়তে আগ্রহী হয়।
  • আপনার লেখা আর্টিকেলটি যেন গল্পের মতো হয়, অর্থাৎ গল্পের মতো উদাহরণ দিয়ে অডিয়েন্সকে বুঝিয়ে দিবেন।
  • সবসময় ইউনিক আর্টিকেল লেখার চেষ্টা করবেন, অন্যের লেখা চুরি করে লেখা, কাট, কপি, পেস্ট এসব পরিহার করবেন।
  • আর্টিকেলের ভাষা সহজ, শুদ্ধ ও সাবলীল রাখবেন। কোন রকম নোংরা শব্দ আর্টিকেলে ব্যবহার করবেন না।
  • বানান ভুল করা থেকে বিরত থাকবেন।
  • আর্টিকেলে অবাঞ্ছিত শব্দ বা বাক্য রাখবেন না।
  • কোন রকম ভুল তথ্য দিয়ে আর্টিকেল লিখবেন না।
  • লেখা শেষ হয়ে গেলে ৪/৫ বার রিভিশন দিবেন।


আমাদের শেষ কথা

কন্টেন্ট রাইটিং শেখার জন্য কোন কোর্স বা টিউটোরিয়াল প্রয়োজন নেই। কারণ এটি কোন টেকনিক্যাল কাজ নয়, এটা হলো সৃজনশীল ও সাধনার কাজ। আপনি নিয়মিত চর্চা করে গেলে একসময় গুণগত মানের আর্টিকেল লিখতে পারবেন। তাই এই কাজ শিখতে চাইলে নিয়মিত চর্চা করুন পাশাপাশি অন্যের লেখা আর্টিকেলগুলো পড়ুন।

কন্টেন্ট রাইটিং
কন্টেন্ট রাইটিং


Post a Comment