ইমাম বুখারী রহ. এর আত্মজীবনী biography of imam Bukhari

কোরআনের পরে পৃথিবীতে সহীহ গ্রন্থ হিসেবে যে গ্রন্থটির কথা উল্লেখ রয়েছে সেটি হলো বুখারী শরীফ যার পুরো নাম : আল-জামি আল-সাহীহ আল-মুসনাদ মিন উমুরি রাসূলিল্লাহ ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি ।  ইমাম বুখারী (রহ.) দীর্ঘ সময় নিয়ে এটি সংকলন করেছেন, তাঁর এই মহান কর্মের জন্য বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি লাভ করেছেন। এই আর্টিকেলে তাঁর জীবনী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

জন্ম ও পরিচয়

খোরাসানের বোখারা নগরের এক মুসলিম পরিবারে ২১ জুলাই ৮১০ খ্রিস্টাব্দ অর্থাৎ ১৩ শাওয়াল ১৯৪ হিজরী সনে রোজ শুক্রবার জন্মগ্রহণ করে এক ফুটফুটে শিশু। শিশুটির নাম রাখা হয় মুহাম্মদ। পরবর্তী জীবনে যিনি জগত বিখ্যাত মুহাদ্দিস মুহাম্মদ আল বুখারী (রহ.) নামে পরিচিতি লাভ করেন, তাঁর উপনাম আবু আব্দুল্লাহ। বুখারা অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন বলে তাঁকে বুখারী ও বলা হয়।  উপাধি আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদীস। শিশুটির পিতা ইসমাইল ছিলেন একজন বিজ্ঞ আলেম ও মুহাদ্দিস। তাঁর দাদার নাম ইব্রাহিম এবং ইব্রাহিমের পিতা মুগীরা। মুগীরা হলেন সেই ব্যক্তি যিনি সাহাবাদের জীবদ্দশায়  ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন কাজেই শিশুটির পুরো নাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুগীরা।

শৈশব ও কৈশোর

খোরাসান অঞ্চল বর্তমান সময়ের ইরান  ও আফগানিস্তান অধ্যুষিত এলাকা হ‌ওয়ায় মোহাম্মদ নামের শিশুটির মাতৃভাষা ফারসিয়ান তবে এক‌ইসাথে তিনি সমানভাবে আরবি ভাষাতেও পারদর্শী হয়ে উঠে।মাত্র তিন বছর বয়সে শিশুটি তাঁর দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং তাঁর বাবা ইন্তেকাল করেন। শিশুটির মা ছিলেন অত্যন্ত আল্লাহ্ ভীরু ও নেককার মহিলা। মুহাম্মদ যখন তাঁর দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলেন তখন তাঁর মা আরো দৃঢ় চিত্তে আল্লাহর ইবাদাতে মশগুল হয়ে পড়েন, তিনি রাতের পর রাত আল্লাহর ইবাদাতে কাটিয়ে দেন এবং অনরবত দোয়া করতে থাকেন যেন আল্লাহ তার সন্তানের দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে দেন। এরপর আল্লাহর তরফ থেকে একটি অলৌকিক ঘটনা ঘটে যায়, এক রাতে তিনি স্বপ্নে দেখেন, হযরত ইব্রাহীম ( আ.) তার কাছে এসে বলছেন, "হে অমুক তোমার দোয়ার কল্যাণে আল্লাহ্ সুবহানাহু তায়ালা তোমার সন্তানের দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন।"  স্বপ্নটি দেখার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠেন। স্বপ্নটি সত্যি কিনা সেটা যাচাই করার জন্য দৌড়ে সন্তানের কাছে চলে যান এবং ঘুম ভাঙান এরপর দেখতে পান তার সন্তান দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেয়েছে। এই ঘটনা থেকে বুঝা যায় ইমাম বোখারী (রহ.) এর মা কত বড় পরহেযগার ছিলেন। ইমাম আল বুখারীর পিতা মারা যাওয়ার সময় অনেক ধন সম্পদ রেখে যান ফলে তাকে অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে হয়নি। তাঁর মা ই তার সমস্ত শিক্ষা-দীক্ষার ভার বহন করেন।

তাঁর স্মৃতিশক্তি এতো প্রখর ছিল যে মাত্র ছয় বছর বয়সেই তিনি পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে ফেলেন। দশ বছর বয়স থেকেই বুখারা নগরীর প্রসিদ্ধ ইমাম দাখিলী (রহ.) কাছ থেকে তিনি হাদীস শিক্ষা শুরু করেন। সে সময়ের একটি ঘটনা এমন যে, একদিন ইমাম দাখিলী (রহ.) একটি হাদীস পাঠ করছিলেন এবং সেখানে এগারো বছর বয়সী ইমাম বোখারি (রহ.) বসে ছিলেন। ইমাম দাখিলী হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম বলছিলেন অর্থাৎ হাদীসের সনদ পাঠ করছিলেন। উল্লেখ্য যে হাদীসের সনদে যে নাম গুলো রয়েছে সেখানে সামান্য গড়মিল হলে পুরো হাদীস অশুদ্ধ হয়ে যায়। ইমাম দাখিলী (রহ.) বলতে শুরু করলেন, হাদ্দাসানা সুফিয়ান আন আবু জুবায়ের আন ইব্রাহিম। এতটুকু বলতেই ইমাম বুখারী (রহ.) বলে উঠলেন, শায়েখ এখানে জুবায়ের হবে আবু জুবায়ের নয়। আবু জুবায়ের এর সাথে ইব্রাহিমের কখনো সাক্ষাৎ হয়নি। ইমাম দাখিলী বললেন সাক্ষাৎ না হলে হাদিসটি কিভাবে এলো, তুমি কি বলছো তুমি কি জানো? এখানে আবু জুবায়ের হবে। ইমাম বুখারী আবারো বললেন না শায়েখ জুবায়ের হবে আবু জুবায়ের নয়, আপনি আপনার হাদীসের নোটবুক চ্যাক করুন। এগারো বছর বয়সী এক বালক বারবার এক‌ই কথা বলে যাওয়ায় ইমাম দাখিলী একটু অসন্তোষ্ট হলেন তাই তার সংগ্রহশালায় গিয়ে তার নোটবুক খুঁজে খুঁজে হাদীসটি বের করলেন এবং আশ্চর্য হয়ে দেখলেন হাদীসের সনদে শুধুমাত্র জুবায়ের উল্লেখ রয়েছে আবু জুবায়ের নয়। এরপর তিনি হাসতে হাসতে ঘর থেকে বের হলেন এবং ছোট্ট বুখারীকে বললেন, "হে আমার পুত্র! তুমি সত্যি বলছো, তোমার ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল, একদিন তুমি অনেক উচ্চ মাকামে পৌঁছাবে।"

ছেলেবেলায় তাঁর আরো একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা এমন যে, উস্তাদের কাছে হাদীস শেখার জন্য তিনি কখনো খাতা কলম নিয়ে যেতেন না, যেখানে অনান্য শিক্ষার্থীরা খাতা কলম নিয়ে যেতো এবং মুহাদ্দিসের বলা হাদীসগুলো নোট করে রাখতো। ইমাম বুখারীর এমন কর্মকান্ডে তাঁর সহপাঠীরা বলতো, "কি ব্যাপার মুহাম্মদ! আমরা সবাই খাতা কলম নিয়ে আসি, তুমি খাতা কলম ছাড়া আসো কেন? তখন তিনি বললেন আমার খাতা কলম প্রয়োজন হয় না। একথা শুনে তার সহপাঠীরা অবাক হলে তিনি বলেন, তোমাদের নোটবুক নিয়ে আসো। তারা নোটবুক নিয়ে এলে তিনি সব উস্তাদের শেখানো সব হাদীস নির্ভুল ভাবে বলে দেন। এতে তার সহপাঠীদের খাতায় যাদের ভুল ছিল তারা সেটা ঠিক করে নেয়। এই ঘটনা থেকে উনার প্রখর স্মরণ শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়।

ষোল বছর বয়সে ইমাম বুখারী তার মা এবং বড় ভাইয়ের সাথে হজ্জ করতে মক্কায় যান। তখন মুসলিমদের জন্য মক্কা ছিল বিশাল জ্ঞানের ভান্ডার কারণ সারা বিশ্ব থেকে বড় বড় মুহাদ্দিসগণ মক্কায় উপস্থিত হতেন। যাতায়াত সহজসাধ্য না হ‌ওয়ায় অনেকটা সময় তারা সেখানে অতিবাহিত করতেন। ফলে মক্কায় জ্ঞান বিতরণের মেলা বসত। ষোল বছর বয়সে মক্কার এই অবস্থা দেখে ইমাম বুখারী আশ্চর্য্যনিত হয়ে যায় এবং নিজের জ্ঞান সমৃদ্ধ করার জন্য তিনি ব্যাকুল হয়ে উঠেন। তাই হজ্জ শেষে মা এবং ভাইকে বললেন, "তোমরা বোখারায় ফিরে যাও আমি এখানেই থাকবো।" তার মা একথায় সম্মতি জানালেন এবং প্রাণভরে তাকে দোয়া করে বোখারায় ফিরে গেলেন। এরপর থেকে স্থায়ী ভাবে ইমাম আল বোখারী বোখারায় ফিরে যাননি। মক্কায় বিশ্ব বিখ্যাত আলেমদের সাথে থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে থাকেন।

হাদীস সংগ্রহের জন্য তিনি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছেন। বিশ বছর বয়সে তিনি বাগদাদে সফর করেন, সেই সময়ে বাগদাদে ইসলামের একজন বড় আলেম অবস্থান করতেন তিনি হলেন ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) তাঁর কাছ থেকেও ইমাম বুখারী শিক্ষা গ্রহণ করেন। পৃথিবীর অন্যতম সেরা মুহাদ্দিস ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ বুখারী সম্পর্কে বলেন, আমি আমার সমগ্র জীবনে খোরাসান অঞ্চলে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের মতো আর কাউকে দেখিনি।

একটি ঘটনা বহুল ভাবে আলোচিত যে তাঁর বয়স ত্রিশের কোঠায় পৌঁছালে তিনি আবার বাগদাদ ভ্রমণে যান ততদিনে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ইন্তেকাল করেছেন এবং ইমাম বুখারীর নাম সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র ত্রিশ বছর বয়সে তিনি এতো সুনাম ও মান মর্যাদা অর্জন করেছিলেন যা কল্পনায় করা যায় না। বাগদাদের মুহাদ্দিসগণ মনে করলেন এই লোককে মানুষ মনে হয় একটু বেশিই সেলিব্রিটি বানিয়েছে হয়তো জ্ঞানের তুলনায় তার সুনাম অত্যধিক ছড়িয়ে পড়েছে। কাজেই তার স্মৃতি শক্তি যাচায়ে তারা একটি পরীক্ষা নিতে চাইলেন, ইমাম বুখারী ও এতে সম্মতি জানালেন, বাগদাদের জাতীয় মসজিদে একটি পরীক্ষার আয়োজন করা হলো। স্থির করা হলো দশজন মুহাদ্দিস দশটি করে সর্বমোট একশটি হাদীস বর্ণনা করবেন। হাদীসের সনদ ও মতন উলট পালট করে দেওয়া হবে। মানে হলো একটি হাদীসের সনদের সাথে অন্য একটি হাদীসের মতন মিশ্রিত করে দেওয়া হবে। হাদীসটি অনেকটা এরকম হতে পারে A হতে B এবং  B হতে C কর্তৃক বর্ণিত রাসূল সা বলেছেন নামাজ বেহেশতের চাবি। কিন্তু আসলে ABC হাদীসটি বর্ণনা করেনি বরং EFG হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কাজেই আপাতদৃষ্টিতে হাদীসটি সঠিক মনে হলেও হাদীসটির সনদ ও মতন পাল্টে দেওয়ায় হাদীসটি অশুদ্ধ।

আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছে হাদীসের মতন টুকুই গুরুত্বপূর্ণ অর্থাৎ রাসূল (সা.) বলেছেন নামাজ বেহেশতের চাবি এই অংশটুকুই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু যাদের মাধ্যমে এই হাদীস টি বর্ণিত হয়েছে সেই বর্ণনাকারীরাও মুহাদ্দিসগণের নিকট গুরুত্বপূর্ণ কারণ বর্ণনাকারী যদি পাল্টে যায় তবে সেটিকে একটি নতুন হাদিস হিসেবে ধরা হয়। বাগদাদের গ্রেন্ট মসজিদে মুহাদ্দিসগণ এক এক করে হাদীস বলতে শুরু করলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা বললো হ্যা আমরা এই হাদীস শুনেছি কিন্তু ইমাম বুখারী (রহ.) বললেন না আমি এই হাদীস শুনিনি। এরপর আরেকটি হাদীস বর্ণনা করা হলো এবার ও তিনি বলেন না আমি এই হাদীস শুনিনি, এভাবে একশটি হাদীস‌ই বর্ণনা করা হলো আর তিনি বললেন না আমি এই হাদীস শুনিনি। এরপর ইমাম বুখারী (রহ.) জিগ্যেস করলেন আপনাদের হাদীস বর্ণনা কী শেষ হয়েছে মুহাদ্দিসগণ বললেন হ্যাঁ আমাদের হাদীস বর্ণনা শেষ। তিনি বলেন তাহলে চলুন প্রথম হাদীসটিতে ফিরে যাওয়া যাক। প্রথম হাদীসে আপনারা বলেছেন A হতে B এবং B হতে C কর্তৃক বর্ণিত রাসূল সা বলেছেন নামাজ বেহেশতের চাবি, এটা ভুল। সঠিক হলো E হতে F এবং F হতে G কর্তৃক বর্ণিত রাসূল সা বলেছেন নামাজ বেহেশতের চাবি। এক‌ই ভাবে তিনি দ্বিতীয় হাদীসটি শুদ্ধ করে দিলেন। এরপর তৃতীয় হাদীস এরপর চতুর্থ এভাবে একশটি অশুদ্ধ হাদীস‌ই শুদ্ধ করে দিলেন। ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, ইমাম বুখারী যে সেই একশ হাদীস শুদ্ধ ভাবে জানবেন সেটা আমরা জানতাম কিন্তু যেই বিষয়টি আমাদের হতবাক করে দিয়েছিলো সেটি হলো আমাদের বর্ণিত সনদগুলো শুধুমাত্র একবার শুনেই তিনি মুখস্থ করে ফেলেন এবং কোন কোন নাম ভুল ছিল সেটি নিখুঁত ভাবে আমাদের বলে দেন।

বুখারী শরীফ সংকলন

বুখারী শরীফ সংকলনের পূর্বে আলেমগণ যতো হাদীস সংকলন করেছেন, সবগুলোতে সহীহ ও য‌ইফ হাদীস মিশ্রিত ছিল, ইমাম বুখারী (রহ.) এর আগে কেউ পূর্ণাঙ্গ সহীহ হাদীস সংকলন করেননি।

একদিন ইমাম বুখারী (রহ.) উস্তাদ ইসহাক বিন রাহওয়াই তাঁর ছাত্রদের বলছিলেন, তোমাদের মধ্যে হতে কেউ যদি এমন হাদীস সংকলন করতো যাতে শুধু সহীহ হাদীস‌ই থাকতো, তাহলে বিষয়টি খুব সুন্দর হতো। এই কথাটি ইমাম বুখারীর মনে গভীর ভাবে রেখাপাত করল তাই তিনি পরবর্তীকালে বুখারী শরীফ সংকলনের কাজ শুরু করেন।

এছাড়াও তাঁর জীবনীতে আরো একটি ঘটনা উল্লেখ আছে যে, একদিন তিনি স্বপ্নে দেখলেন রাসূল (সা.) এর পবিত্র শরীরে মাছি বসেছে আর তিনি তা পাখা দিয়ে তাড়িয়ে দিচ্ছেন। সেসময়কার স্বপ্নবিশারদ আলেমদের কাছে এর ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তারা বলেন যে, তিনি জাল হাদীস থেকে সহীহ হাদীসগুলো পৃথক করেছেন।

ইমাম বুখারী (রহ.) যখন বুখারী শরীফ সংকলন শুরু করেন তখন তাঁর বয়স তেইশ বছর। তিনি ছয় লক্ষ হাদীস থেকে যাচাই বাচাই করে ৭২৭৫ টি হাদীস বুখারী শরীফের জন্য সহীহ হাদীস হিসেবে নির্বাচন করেন। তিনি ২১৭ হিজরী থেকে শুরু করে ২৩৩ হিজরী পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছর নিরলস পরিশ্রম করে বুখারী শরীফ সংকলনের কাজ করেন, বুখারী শরীফ সংকলনের পুরো সময়টাতে তিনি রোজা রাখতেন। কোন হাদীস সংকলনের পূর্বে তিনি গোসল করে পবিত্র হয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে ইস্তেখারার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে নিতেন হাদীসটি সহীহ কিনা। এছাড়াও হাদীস বর্ণনাকারী অর্থাৎ হাদীসের রাবীদের  ব্যাপারেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতেন, রাবীদের ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য কিছু শর্ত ছিল যে,

  • রাবী ন্যায়পরায়ণ হতে হবে।
  • রাবী পূর্ণ স্মরণ শক্তি সম্পন্ন হতে হবে।
  • হাদীসের রাবী তার উপরের রাবীর সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে এটা প্রমাণিত হতে হবে।
  • মাঝখান থেকে কোন রাবী বাদ পড়া যাবে না।

এছাড়াও কোন হাদীসের ব্যাপারে মনে সন্দেহ জাগলে তা বাদ দিয়ে দিতেন। পুরো গ্রন্থ লেখা শেষ হলে সেটা তিনবার রিভিশন দিয়েছেন।

মৃত্যু

ইমাম বুখারীর জীবনের শেষ সময়গুলো শান্তিতে কাটাতে পারেননি। তাঁর সুনাম যখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন তিনি বুখারার মসজিদে মানুষদের হাদীস শিক্ষা দিতেন, সে সময় বুখারার আমীর আমীর খালেদ বিন আহমাদ তাকে নিজ দরবারে এসে তার পুত্রদের হাদীস শিক্ষা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন, কিন্তু ইমাম বুখারী (রহ.) তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, "আপনার সন্তানদের যদি হাদীস শিক্ষার প্রয়োজন হয় তাহলে তাদের মসজিদে পাঠান।" তাঁর একথায় আমীর ক্ষুব্ধ হয়ে উনাকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করেন। এরপর তিনি বুখারা থেকে নিশাপুরে চলে যান সেখানেও তিনি এক‌ই ঘটনার শিকার হন এরপর তিনি সমরকন্দের খরতঙ্গ নামক এলাকায় চলে যান। জীবনের শেষ সময়টুকু সেখানেই কাটিয়ে দেন এবং ১ শাওয়াল ২৫৬ হিজরী সনে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর কবর থেকে সুগন্ধ বের হতে শুরু করে, এতে দলে দলে মানুষ এসে তার করব থেকে মাটি নিতে শুরু করে। এমন বেগতিক অবস্থা দেখে তার কবর কাটা দিয়ে ঘেরাও করা হয়। পরে এক আল্লাহর ওলি দোয়া করেন যেন তার কবর থেকে আর সুগন্ধ বের না হয়। এরপর থেকে তার কবর থেকে আর সুগন্ধ ভেসে আসে না।

ইমাম বুখারী রহ. আত্মজীবনী biography of imam Bukhari


Post a Comment