ডোমেইন কি কত প্রকার কিভাবে কিনবেন ও কেনার আগে করণীয় কী?

ডোমেইন কী? What is Domain?

ডোমেইন হলো ওয়েবসাইটের নাম, আপনার যেমন একটি নির্দিষ্ট নাম আছে, যে নামে ডাকলে আপনি জবাব দেন, ওয়েবসাইট‌ও ঠিক তেমনি। ধরে নিলাম আপনার নাম সাদের আলী এখন আপনাকে যদি আমি কাদের আলী বলে ডাক দেই তাহলে আপনি জবাব দিবেন না, তেমনি এই ওয়েবসাইটের নাম sohojupay.com এটা একটা ডোমেইন নাম, আপনি যদি এই নাম লিখে আপনার ওয়েব ব্রাউজার রান করান তাহলে এই ওয়েবসাইট শো করবে। আরো সহজ ভাবে বলতে গেলে, "কোন ওয়েবসাইটে ঢোকার জন্য যে নাম লিখে ঢুকতে হয় তাকে ডোমেইন নাম বলে।"

ডোমেইন নাম কেন প্রয়োজন?

প্রতিটি ওয়েবসাইটের‌ই নির্দিষ্ট একটি আইপি অ্যাড্রেস বা আইপি নম্বর থাকে, যেমন গুগলের আইপি অ্যাড্রেস হলো 142.250.217.100 এটি। এভাবে সব ওয়েবসাইটের ই একটি আইপি নম্বর থাকে। কিন্তু একজন মানুষের পক্ষে এসব আইপি নম্বর দিয়ে ওয়েবসাইট ভিজিট করা কষ্টকর ব্যাপার, এরচেয়ে সহজ হয় কোন নাম ব্যবহার করে ওয়েবসাইট ভিজিট করা। এজন্য ডোমেইন নাম ব্যবহার করা প্রয়োজন। আরো সহজ ভাবে বলতে গেলে,

আপনি যদি ব্যবসা কিংবা অন্য কোন প্রয়োজনে ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান, তাহলে নিশ্চয় সর্ব প্রথম ডোমেইন নামের কথা চিন্তা করবেন। কারণ ডোমেইন নাম না থাকলে কোন অডিয়েন্স আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানতে পারবে না। ওয়েবসাইটকে যদি বাড়ী হিসেবে চিন্তা করেন তাহলে ডোমেইন নাম হলো সেই বাড়ীর ঠিকানা, সেই ঠিকানা যদি কেউ না জানে তাহলে সেখানে কেউ আসতে পারবে না। তাই কোন ওয়েবসাইটে ঢোকার জন্য ডোমেইন নাম প্রয়োজন।

ডোমেইন এক্সটেনশন

একটি ডোমেইনে কয়েকটি অংশ বা পার্ট থাকে, এসবের প্রতিটি পার্টের আলাদা আলাদা নাম থাকে, যেমন এই ওয়েবসাইটের পুরো নাম হলো https://www.sohojupay.com এখানে চারটি অংশ আছে যেমন: https:// www. sohojupay এবং .com । এখানে যে .com লেখাটি দেখতে পাচ্ছেন সেটি হলো ডোমেইন এক্সটেনশন। ডোমেইন এক্সটেনশন বিভিন্ন ধরনের হয় যেমন .com .net .org .info ইত্যাদি।

ডোমেইন কত প্রকার?

ডোমেইনের প্রকারভেদের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, ডোমেইন ৬ প্রকার।

. টপ লেভেল ডোমেইন Top-Level Domain (TLD)

২. কান্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন Country Code Top-Level Domain (ccTLD)

৩. জেনেরিক টপ লেভেল ডোমেইন Generic Top-Level Domain (gTLD)

৪. সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন Second-Level Domain (SLD)

৫. সাব ডোমেইন Sub Domain

৬. প্রিমিয়াম ডোমেইন Premium Domain


টপ লেভেল ডোমেইন Top-Level Domain (TLD)

একটি ডোমেইন এর ভেতরে কয়েকটি অংশ থাকে। সাধারণত কোনো ওয়েবসাইটের নামের পরে যদি ( .com , .net, .org ) ইত্যাদি এক্সটেনশন থাকে তাকে টপ লেভেল ডোমেইন বলা হয়, উদাহরণস্বরূপ sohojupay.com এটি একটি টপ লেভেল ডোমেইন। সাধারণত ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্লগিং ও অর্গানাইজেশন ইত্যাদি কাজের জন্য যেসব ওয়েবসাইট ব্যবহার করা হয় সেগুলোর ডোমেইন হলো টপ লেভেল ডোমেইন।

কান্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন Country Code Top-Level Domain (ccTLD)

টপ লেভেল ডোমেইন বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে, তবে যে টপ লেভেল ডোমেইনে কান্ট্রি কোড দেওয়া থাকে তাকে কান্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন বলা হয়। কান্ট্রি কোড ডোমেইন একটি নির্দিষ্ট দেশের সাধারণের জন্য ব্যবহার করা হয়। যেমন bbc.co.uk এটা হলো ক্যান্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন উপরন্তু bbc.com হলো টপ লেভেল ডোমেইন। বাংলাদেশের কান্ট্রি কোড ডোমেইনগুলোর সাধারণত .com.bd , .org.bd , net.bd , gov.bd এরকম হয়।

যেমন বাংলাদেশের জন্য ccTLD হলো https://bangladesh.gov.bd 

জেনেরিক টপ লেভেল ডোমেইন Generic Top-Level Domain (gTLD)

আপনি ইতিমধ্যে হয়তো টপ লেভেল ডোমেইন সম্পর্কে পড়েছেন, যেটা সাধারণত .com .info .org .net ইত্যাদি এক্সটেনশন হয়। কিন্তু আপনি আপনার ওয়েবসাইটের ডোমেইনে এসব এক্সটেনশন ব্যবহার না করে জেনেরিক টাইপ এক্সটেনশন ব্যবহার করেন তাহলে সেটা জেনেরিক টপ লেভেল ডোমেইন হবে। যেমন আপনার একটি দোকান আছে তাহলে আপনি .shop এক্সটেনশন ব্যবহার করতে পারেন। কিছু জেনরিক টপ লেভেল ডোমেইনের এক্সটেনশন এর উদাহরণ হলো, . studio .art . fashion .yoga . health .club ইত্যাদি। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের ধরণ অনুযায়ী এক্সটেনশন ব্যবহার করা হয়।

সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন Second-Level Domain (SLD)

আপনি এই মুহূর্তে যে ওয়েবসাইটে আছেন সেটি হলো sohojupay.com এটি একটি টপ লেভেল ডোমেইন। আমি যদি এখান থেকে .com বাদ দেই তাহলে থাকে শুধু sohojupay আর এটি হলো সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন।

সাব ডোমেইন Sub Domain

সাব ডোমেইন হলো প্রধান ডোমেইনের শাখা ডোমেইন। অর্থাৎ সাব ডোমেইনে প্রধান ডোমেইনের নাম উল্লেখ থাকবে। আপনি চাইলে ওয়ার্ডপ্রেসের কিংবা ব্লগস্পটের সাব ডোমেইন ব্যবহার করে ব্লগ/ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। এজন্য আপনার ওয়েবসাইটের নামের পরে ব্লগস্পট কিংবা ওয়ার্ডপ্রেসের নাম থাকবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, sohojupay360.blogspot.com এটি ব্লগস্পটের একটি সাব ডোমেইন।

প্রিমিয়াম ডোমেইন Premium Domain

মানুষ অনেক সময় এমন ডোমেইন খুঁজে যেটা অলরেডি অন্য কেউ কিনে নিয়েছে। তবে যে ব্যাক্তি ডোমেইনটি কিনে নিয়েছে সে নিজে ব্যবহারের জন্য কিনে নেয়নি, বিক্রি করার উদ্দেশ্যে কিনেছে। এমন সব রেজিস্ট্রেশন করা ডোমেইনকে প্রিমিয়াম ডোমেইন বলে। প্রিমিয়াম ডোমেইনের মূল্য অনেক বেশি, চাইলে আপনিও ডোমেইন কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন।


কোথায় থেকে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করবেন?

ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করার জন্য দেশি বিদেশি অনেক প্রোভাইডার ই আছে। আপনার যদি পেপ্যাল অথবা ডুয়েল কারেন্সি যুক্ত কোন কার্ড থাকে তাহলে namecheap অথবা goodday থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন, এই দুটো ডোমেইন প্রোভাইডার বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু আপনি যদি বিকাশ, নগদ অথবা রকেটে পেমেন্ট পরিশোধ করতে চান তাহলে আপনাকে দেশি ডোমেইন প্রোভাইডারদের থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। আমাদের দেশেও অনেক ভালো ডোমেইন প্রোভাইডার আছে। যেমন, Dhaka web host, Web host BD, Exon host, Putul host ইত্যাদি।


কোন ডোমেইন এর দাম কত দাম?

ডোমেইন এক্সটেনশন ভেদে দামের পার্থক্য হয়, এছাড়াও একেক প্রোভাইডার একেক দামে বিক্রি করে। সাধারণত .com ডোমেইনের জনপ্রিয়তা বেশি। আপনি ৭০০-৮০০ টাকায় .com ডোমেইন কিনতে পারবেন। তবে .xyz .club .top এসব ডোমেইন ১০০-১৫০ টাকায় পাবেন। তবে প্রিমিয়াম ডোমেইন কিনতে গেলে আপনাকে টাকা ব্যয় করতে হবে, এমন‌ও হতে পারে একটি প্রিমিয়াম ডোমেইনের মূল্য ১০০০ ডলার‌।

ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করার সময় যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে।

  • ডোমেইন কেনার আগে যে প্রোভাইডার থেকে ডোমেইন কিনবেন তাদের সার্ভিস সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া উচিত, ডোমেইন মূল্য কত? রিনিউ ফি কত? কোন হিডেন চার্জ আছে কি না? ডোমেইন ট্রান্সফার করা যাবে কি না? ডোমেইনের সম্পূর্ণ কন্ট্রোল দিবে কি না? এসব জেনে নিবেন।
  • ব্লগিং কিংবা ওয়েবসাইটের জন্য সব সময় টপ লেভেল ডোমেইন (TLD) ব্যবহার করবেন। বিশেষ করে .com ডোমেইন জনপ্রিয় বেশি।
  • ডোমেইন নাম যথা সম্ভব ছোট রাখার চেষ্টা করবেন।
  • ডোমেইন নাম আপনার ওয়েবসাইটের সার্ভিসের ধরণ অনুযায়ী রাখবেন।
  • এস‌ইও ফ্রেন্ডলি ডোমেইন নাম চয়েস করবেন।


            কিভাবে কিনবেন?

            ডোমেইন কেনা কঠিন কিছু নয়, যে প্রোভাইডার/ওয়েবসাইট থেকে ডোমেইন কিনবেন সেই ওয়েবসাইটে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিবেন। অ্যাকাউন্টে তৈরি করা কঠিন কিছু নয়। নাম, ঠিকানা, ই-মেইল অ্যাড্রেস, মোবাইল নাম্বার ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ফেসবুকের মতো করেই অ্যাকাউন্ট তৈরি করবেন। এরপর তাদের সার্ভিস অপশনে গিয়ে আপনার কাঙ্ক্ষিত ডোমেইন নাম সার্চ করবেন, এরপর সেটা যদি অ্যাভেলেবল থাকে তাহলে কার্ট এ যাবেন সেখানে পেমেন্ট পরিশোধ করার অপশন পাবেন। এরপর পেমেন্ট পরিশোধ করলে আপনার ডোমেইন এক্টিভ হয়ে যাবে।

            আশাকরি ডোমেইন কি তা বুঝতে পেরেছেন। কোন কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে কমেন্টে জানাবেন, আমি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করব।

            ডোমেইন কি কত প্রকার কিভাবে কিনবেন ও কেনার আগে করণীয় কী?


            একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
            নবীনতর পূর্বতন