গুগলের প্রয়োজনীয় সেবা সমূহ যা সবার জানা উচিত

 আমরা যারা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ব্যবহার করি তারা সবাই কোন না কোন ভাবে গুগলের সাথে যুক্ত, অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করেন অথচ গুগলের সেবা গ্রহণ করেন না এমনটি অসম্ভব, কারণ অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমকে গুগল কিনে নিয়েছে। এটি এমন‌ই জনপ্রিয় প্রযুক্তি যে সারাবিশ্বে একচেটিয়া ভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। গুগল ফ্রী এবং পেইড দুই ভাবেই সেবা প্রদান করে থাকে, তবে এর বেশিরভাগ সেবা হলো ফ্রী। আজকের এই লেখায় আমরা গুগলের প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সেবা সমূহ নিয়ে আলোচনা করবো।


সার্চ ইঞ্জিন ।‌। Search Engine

গুগলের সেবার কথা বলতে গেলে সর্ব প্রথমেই যে সেবার কথা বলতে হয় সেটি হলো গুগল সার্চ ইঞ্জিন। কোন তথ্য খোঁজার প্রয়োজন হলে আমরা গুগলে সার্চ করি। বিশ্বে অনেক সার্চ ইঞ্জিন‌ই আছে কিন্তু অনান্য সার্চ ইঞ্জিনের চেয়ে গুগল সার্চ ইঞ্জিন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। 


প্লে স্টোর ।। Play Store

প্লে স্টোর হলো অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় অ্যাপস ও গেমস ডাউনলোড করার মাধ্যম, এখানে আপনি আপনার মোবাইলের জন্য সকল প্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করতে পারবেন। এখানে ফ্রী এবং প্রিমিয়াম দুই ধরনের অ্যাপস ই পাওয়া যায়, গুগলের সেবা হ‌ওয়ায় এখানের সব অ্যাপসগুলোই নিরাপদ।


ইউটিউব ।। YouTube

ইউটিউব ভিডিও শেয়ারিং করার জন্য জনপ্রিয় একটি প্লাটফর্ম, এটাকে সার্চ ইঞ্জিন হিসেবেও বলা যায় কারণ মানুষ কোন কিছু প্রয়োজন হলে ইউটিউবে গিয়ে সার্চ করে। বিনোদন, শিক্ষা, সংবাদ, রেসিপি, টেকনোলজি, টিপস সব ধরনের ভিডিও ই ইউটিউবে পাওয়া যায়। যারা ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে তাদের বলা হয় ইউটিউবার। ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে আপনি অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারবেন। 


গুগল ম্যাপ ।। Google Map

গুগল ম্যাপ হলো গুগলের তৈরি ওয়েব ম্যাপ, যেখানে পথ-ঘাট, দোকান, বাজার, প্রতিষ্ঠান সবকিছুর ম্যাপ দেওয়া আছে। এছাড়াও কোথায় যেতে হলে কিভাবে যাবেন সেই নির্দেশনা গুগল ম্যাপ থেকে নিতে পারবেন। তাছাড়া আপনার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে হলে গুগল ম্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। গুগল ম্যাপে আপনার বাসা কিংবা দোকানের ঠিকানা যোগ করতে পারবেন, এতে করে কাষ্টমাররা সহজেই আপনার আপনার দোকানে আসতে পারবে।


ট্রান্সলেট ।। Translate

এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদ করার জন্য গুগল ট্রান্সলেটের জুড়ি নেই। প্রায় একশোটির ও বেশি ভাষায় অনুবাদ করা যায় গুগল ট্রান্সলেট দিয়ে। আপনি এখানে লিখে অনুবাদ করতে পারবেন, মুখে বলে অনুবাদ করতে পারবেন এবং মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে কোন লেখার উপর ধরে স্ক্যান করার মতো করেও অনুবাদ করতে পারবেন। চাইলে এটা অফলাইনেও ব্যবহার করতে পারবেন।


গুগল ফটোজ ।। Google Photos

গুগল ফটোজ গুগলের এমন একটি সেবা যেখানে আপনি আপনার গ্যালারির ছবিগুলো সংরক্ষণ করতে পারবেন, এজন্য আপনাকে গুগল ফটোজ এ জিমেইল দিয়ে লগইন করে নিতে হবে‌ অথবা আপনার মোবাইলে জিমেইল অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। এখানে ১৫ গিগাবাইট পর্যন্ত ফ্রী স্টোরেজ ব্যবহার করতে পারবেন। গুগল ফটোজ চালু করার পর আপনি আপনার মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে কোন ছবি উঠালে সেটা সেখানেও সেভ হবে। এর ফলে আপনার মোবাইল হারিয়ে গেলে কিংবা নষ্ট হয়ে গেলে আপনার ছবিগুলো হারিয়ে যাবে না।


গুগল ড্রাইভ ।। Google Drive

গুগল ড্রাইভ হলো গুগলের ক্লাউড স্টোরেজ সেবা, এখানে আপনি আপনার মোবাইলে থাকা সব ধরনের ফাইল সংরক্ষণ করতে পারবেন। ফ্রী তে আপনি ১৫ গিগাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ ব্যবহার করতে পারবেন এর বেশি ব্যবহার করতে চাইলে আপনাকে পে করতে হবে।


জিমেইল ।। Gmail

জিমেইল হলো গুগলের ই-মেইল সেবা। আজকাল সবার‌ই প্রায় জিমেইল অ্যাকাউন্ট আছে, জিমেইল ছাড়া বর্তমানে অনলাইনে অনেক কিছুই করা যায় না। গুগলের গুরুত্বপূর্ণ সেবা সমূহ যেমন ( প্লে স্টোর, ইউটিউব, গুগল ম্যাপ, ফটোজ, ড্রাইভ, ব্লগার, ট্রান্সলেট ইত্যাদি) সেবা পেতে হলে আপনার অবশ্যই জিমেইল অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। এ ছাড়া অনলাইনে অন্যান্য স্যোশাল অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে চাইলেও জিমেইল অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হয়।


ক্রোম ।। Chrome

ক্রোম হলো গুগলের জনপ্রিয় একটি ব্রাউজার। অসাধারণ সব ফিচার, নিরাপদ ব্রাউজিং, ফাষ্ট স্পীড ইত্যাদি সুবিধার জন্য ইন্টারনেট ইউজারদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে ব্রাউজারটি।


ব্লগার ।। Blogger

ব্যাক্তিগত ব্লগ কিংবা ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ব্লগার বেশ জনপ্রিয়। ব্লগারে আপনি ফ্রী তে ওয়েবসাইটে তৈরি করতে পারবেন। এজন্য আপনাকে কোন ডোমেইন কিংবা হোস্টিং কিনতে হবে না। তবে ব্লগারে যে ডোমেইন পাবেন সেটা সাব ডোমেইন, কিন্তু ব্লগারে হোস্টিং এর জন্য কোন ফি দিতে হয় না। যারা নতুন ব্লগিং শুরু করতে চাচ্ছেন তাদের জন্য ব্লগার বেস্ট হবে।


গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ।। Google Assistant

গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট হলো আপনার অ্যাসিস্ট্যান্ট, অর্থাৎ আপনি আপনার মোবাইলে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট চালু করে যে নির্দেশনা দিবেন সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে। এজন্য প্রথমে আপনাকে এটি চালু করে নিতে হবে, এরপর আপনি যা বলবেন তাই করবে। এর মাধ্যমে আপনি মিউজিক অন, ফ্ল্যাশ লাইট অন, আবাহাওয়া সংবাদ, গুগল সার্চ ইত্যাদি সেবা সমূহ পাবেন।


গুগল ফর্ম ।। Google Forms

গুগল ফর্ম হলো জনপ্রিয় অনলাইন ফ্রম মেকিং প্লাটফর্ম, এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন কুইজ, আবেদন, রেজিস্ট্রেশন ফর্ম ও জরিপ করতে পারবেন, এটি সম্পূর্ণ ফ্রি, এটি ব্যবহারের জন্য আপনার শুধু একটি গুগল অ্যাকাউন্ট থাকলেই হবে।


ডকস ।। Google Docs

গুগল ডকস গুগলেরই একটি সেবা, এর মাধ্যমে আপনি মাইক্রোসফট অফিস প্রোগ্রামের মতো কাজ করতে পারবেন, গুগল ডকসে কিছু লিখলে তা সক্রিয় ভাবে গুগলের ক্লাউড স্টোরেজ এ সেভ হয়ে থাকবে। এছাড়া আপনি এখানে মাইক্রোসফট এক্সেল এর মতো হিসাব নিকাশ করতে পারবেন।


কিপ নোট ।। Keep note

কিপ নোট হলো কোন কিছু লিখে রাখার জন্য নোট, অনেক সময় আমাদের নোট লিখতে হয়, কিন্তু কিপ নোটের সুবিধা হলো আপনি এখানে কিছু লিখলে লেখাটা হারিয়ে যাবে না, জিমেইল লগইন থাকার ফলে, এটি ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়াই ব্যবহার করা যায়।


অ্যাডসেন্স ।। AdSense

ব্লগার এবং ইউটিউবারদের আয়ের প্রধান উৎস হলো গুগল অ্যাডসেন্স। এমনকি গুগলের ও আয়ের উৎস হলো অ্যাডসেন্স, এই অ্যাডসেন্স বলতে অনলাইন বিজ্ঞাপনকে বুঝায়। মানে আমরা ইউটিউবে ভিডিও দেখার সময় কিংবা কোন ব্লগ পোস্ট পড়ার সময় যে অ্যাডসগুলো দেখি, সেগুলোর জন্য ব্লগার কিংবা ইউটিউবাররা টাকা পায়, আর ঐ টাকা তাদের অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টে জমা হয়।


অ্যাড‌ওয়ার্ড ।। AdWords

এড‌ওয়ার্ড হলো পেইড এস‌ইও অর্থাৎ গুগলকে টাকা দিয়ে যদি আপনার ওয়েব পেজকে সার্চ ইঞ্জিনের উপরের দিকে আনতে চান তাহলে আপনাকে আপনাকে গুগল অ্যাড‌ওয়ার্ড অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। অ্যাড‌ওয়ার্ড নিয়ে তারাই কাজ করে যাদের ব্যবসায়িক ওয়েবসাইট অথবা ই-কমার্স সাইট আছে।


গুগল লেন্স ।। Google Lens

আমরা সবসময় গুগলে শব্দ বা বাক্য লিখে সার্চ করি, কিন্তু গুগল লেন্স দিয়ে ছবি দিয়ে সার্চ করা যায়, আপনি এটা দিয়ে আপনার গ্যালারিতে থাকা ছবি অথবা গুগল লেন্স থেকে ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করার মতো সার্চ করতে পারবেন। এর ফলাফল হিসেবেও ঐ ছবির মতো ছবিই আসবে।


কন্ট্যাক্ট ।। Contact

আমাদের সিমগুলোতে নাম্বার সেভ করার লিমিট থাকে, ফলে মোবাইলের স্টোরেজ এ সেভ করতে হয়, কিন্তু মোবাইল নষ্ট কিংবা হারিয়ে যেতে পারে এতে করে মোবাইলে থাকা নাম্বার গুলোও হারিয়ে যাবে, কিন্তু গুগলের কন্ট্যাক্ট অ্যাপে নাম্বার সেভ করে রাখলে মোবাইল নষ্ট হলে কিংবা হারিয়ে গেলেও নাম্বার হারিয়ে যাবে না।


ফাইন্ড মাই ডিভাইস ।। Find my Device

অনেক সময় মোবাইল সাইলেন্ট করা থাকে, আপনি যদি সাইলেন্ট অবস্থায় আপনার মোবাইল খুঁজে না পান তাহলে খুব বিরক্ত লাগবে তাই না, কিন্তু যদি ফাইন্ড মাই ডিভাইস অ্যাপ চালু রাখেন তাহলে মোবাইল সাইলেন্ট অবস্থাতেও রিং বাজাতে পারবেন।


এছাড়াও গুগলের আরো অনেক সেবা আছে যেমন : নিউজ, মিট, চ্যাট, ক্যালেন্ডার, ক্লাস রুম, বুকস, হ্যাংআউট, কালেকশন ইত্যাদি। সব বিষয়ে লিখতে গেলে লেখা বড় হয়ে যায় তাই আমি প্রয়োজনীয় কয়েকটি অ্যাপস/ওয়েবসাইট এর সার্ভিস নিয়ে লিখেছি। কোন বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে কমেন্টে জানাবেন, প্রত্যুত্তরে আমি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করব।

গুগলের প্রয়োজনীয় সেবা সমূহ যা সবার জানা উচিত


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন