আমাদের জন্য আল্লাহর ভালোবাসা। নোমান আলী খান

আমাদের জন্য আল্লাহর ভালোবাসা

যতবার আপনার সামনে হালাল উপার্জনের পথ আসে অথবা আরো উপার্জনের উপায় আসে সেটা হয়তো ঠিক হালাল নয় তখন আপনি ঠিক নিজেকে মনে করিয়ে দেন, 'ওয়ালি তুকাব্বিরুল্লাহ।' আল্লাহ্ এই অর্থ থেকে অনেক বড়ো, তাই আমি এটা করব না। প্রতিবার আপনি যখন ঘুমে থাকেন আর ফজরের আজান দেয় শয়তান আপনাকে চিপে শুইয়ে রাখতে চায়। শয়তান আপনাকে বলবে আরো পাঁচ মিনিট, তখন আপনি নিজেকে বুঝান; 'পাঁচ মিনিট আমি তখন প্রথম রাকাত ধরতে পারব না! কোন ব্যাপারই না, যখন ইচ্ছা তখনই ঘুম থেকে উঠে যাব। আমার জন্য কোন ব্যাপারই না।' এরপরে যে জিনিসটা আপনি জানেন সেটা হলো সকাল দশটা।

যখন এরকম হয় তখন বলুন ওয়ালি তুকাব্বিরুল্লাহ, 'আল্লাহ্ আমার থেকে বড়, আমার ঘুমের থেকেও আল্লাহ্ বড়।' এটার অর্থ এটাই আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি প্রায়োরিটি দেওয়া। আমার নিজের আকাঙ্ক্ষা, আমার নিজের সালাহ্, আমার নিজের অলসতা, নিজের লালসা, নিজের ক্ষুধা, লোভ এগুলো থেকে বেশি প্রায়োরিটি দেওয়া আল্লাহকে জীবনে। এটাই হচ্ছে রমজানের ট্রেনিং। 'ওয়ালিতুকাব্বিরুল্লাহাআলামা হাদা কুম ওয়াল আল্লা কুম তাশ কুরুন।' আয়াতটি শেষ হলো এইভাবেই যেন আমরা কৃতজ্ঞ হতে পারি। প্রশ্ন হলো; কিসের জন্য কৃতজ্ঞ? আয়াত শুরু হয়েছে রমজান মাস আর এ মাসেই কুরআন নাজিল হয়েছে অর্থাৎ প্রথমে যে নেয়ামতের জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো সেটা কি? কুরআন! যেন আপনি কুরআনকে সত্যিকারের কদর করতে পারেন।

ধরুন, আমি আপনার বাসায় গেলাম আর আমি আপনাকে একটা উপহার দিলাম। এই দেখ আমি এটা তোমার জন্য কিনেছি। আমি হয়তো আপনার জন্য ছোট একটা ক্রিস্টালের জিনিস কিনেছি। পাকিস্তানিরা আবার ক্রিস্টালের জিনিস পছন্দ করে। আপনি বললেন, বাহ্ এটা তো খুব সুন্দর, ধন্যবাদ। তারপর দূরে ছুড়ে ফেলে দিলেন। এটা কি অপমানজনক নয়? আমি আপনাকে একটা উপহার দিলাম আর আপনি কি করলেন? আমার সামনেই ধন্যবাদ দিয়ে সেটা দূরে ছুড়ে ফেলে দিলেন। অথবা ধরুন আমি বললাম, হেই আমি তোমার জন্য একটা ব‌ই কিনেছি  মনে হয় তুমি এটা পছন্দ করবে। আপনি এক টুকরো কাপড় নিলেন এবং সেটাকে পিচিয়ে একেবারে ফ্রীজের উপর তুলে রাখলেন। আমি এইভাবে রাখার জন্য আপনাকে ব‌ইটা দেইনি! কেন দিলাম ব‌ইটি আপনাকে যেন আপনি এটা পড়তে পারেন। আপনি এই উপহারের জন্য সন্তুষ্ট নন, বুঝলেন!

আল্লাহ বলেছেন যেন তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো, যেন আপনি এমনভাবে কোরআন কদর করতে পারেন যেমন আপনি আগে করেননি। রমজান যখন শেষ হয়ে যাবে তখন মনে হবে আপনি কুরআনের সাথে নতুন সম্পর্ক গড়লেন আপনি কখনই আর এটাকে সরিয়ে রাখতে পারবেন না সবসময় মনে হবে এর থেকে আরো কিছু জানতে হবে। আল্লাহ্ আমাদের তার সাথে যোগাযোগের সরাসরি একটা লিংক দিয়েছেন, অন্য কোন ধর্মে সেটা নাই। সালাতে আমরা যেটা অনুভব করি সেটা হচ্ছে আল্লাহর সাথে সরাসরি যোগাযোগ। আক্ষরিক অর্থেও সালাতের অর্থ হচ্ছে যোগাযোগ। আক্ষরিক ভাবেও এটা যোগাযোগ ই বুঝায়। আল্লাহর যে কালাম আমরা সালাতে পড়ি তা দিয়ে হয় আমাদের সেই যোগাযোগ। এটা হচ্ছে আসমান থেকে জমিনে আল্লাহর প্রসারিত একটা দড়ি। আপনি সবসময় চাইবেন আরো বেশি পড়তে। কুরআনের সাথে আপনার যোগাযোগ যত বেশি হবে আল্লাহর সাথে আপনার যোগাযোগ তত ভালো হবে। কুরআনের সাথে আপনার যোগাযোগ যত কম হবে আল্লাহর সাথে আপনার যোগাযোগ তত দূরে সরবেন, এটা একটা প্রতিষ্ঠিত সত্য। আমাদের পুরো জীবনের একটা লক্ষ্য থাকতে হবে যে, আমরা যেন এই ব‌ইয়ের আরো কাছে যেতে পারি। আর কেউ কখন‌ই বলতে পারে না যে তার কুরআনের কাছাকাছি কেউ না। এটা এমন একটা সমুদ্র যা শেষ হবার নয়। আমি বলতে পারবো না, আলহামদুলিল্লাহ এই লেকচার আপনাদের জন্য আমার জন্য নয়, আসলে আগে আমার নিজের জন্যই তারপর আপনাদের জন্য বলছি আমি। কারণ আপনি যত গভীরে যাবেন যে আমি তো কিছুই জানি না, আমার আরো দরকার, আরো।

এখন আসছে দোয়ার আয়াত, সুবহানআল্লাহ! এর প্রত্যেকটি শব্দ প্রথমে শুরু করি ইযা দিয়ে, ওয়া ইযা আস আলাকা ইবাদি আন্নি অর্থাৎ ইযা দিয়ে শুরু হয়েছে ইযা অনুবাদ করা হয় যখন আরবি এবং ইংলিশ দুইটাতেই একটা পার্থক্য আছে। যখন এবং যদি'র মাঝে, আমি চাই যে আপনারা যখন এবং যদি'র পার্থক্যটা বুঝুন। যদি এর আরবি হচ্ছে ইন আল্লাহ্ বলেননি যদি আমার বান্দা আপনাকে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বরং বলেছে যখন জিজ্ঞেস করে।

ধরুন, একজন মায়ের কথা। যার ছেলে আর্মিতে গেছে এবং সে যুদ্ধেও গেছে। অনেক দিন মায়ের সাথে কোন যোগাযোগ নেই। কোন কল বা ই-মেইল কিছুই না। মায়ের তো অবশ্যই ছেলের কথা মনে পড়বেই। মা কি বলবে যখন আমার ছেলে আসবে তখন আমি খুশি হবো, নাকি বলবে যদি আমার ছেলে আসে আমি খুশি হবো। সে বলবে যখন আমার ছেলে আসবে তখন আমি খুশি হবো। বলেন যখন, আপনি তখন যদি বলেন না। বলবে না যে, যদি ছেলে আসে তাহলে আমি খুশি হবো। কারণ সে যদি বলে যে যদি আমার ছেলে আসে তাহলে আমি খুশি হবো। এর অর্থ সে এটা মেনেই নিয়েছে যে তার ছেলে মরে যাবে। কিন্তু যদি বলে 'যখন' তার মানে সে আশা করছে যে সে ফেরত আসবে। যখন আপনি কাউকে হারিয়ে ফেলেন আর আপনি চান যে তারা ফিরে আসুক আপনার অন্তর এটা মেনেই নিতে পারবে না যে সে আসবে না। আপনি তখন যদি বলেন না আপনি বলেন তখন, আল্লাহ বলেছেন যখন আমার দাস তোমাকে জিজ্ঞেস করবে, উনি বলেননি যদি আমার দাস জিজ্ঞেস করে, কেন! কারণ আল্লাহ্ আশা করছেন যে আমরা এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করব। উনি অপেক্ষা করছেন আমাদের ডাকের জন্য। এটা অনেকটা এমন যে আল্লাহ্ অপেক্ষা করছেন কখন আমরা চাইব, সুবহানাল্লাহ! যখন এই একটি শব্দের মাঝে আছে বিশ্বাস, আশা, ভালোবাসা সবকিছুই। আল্লাহ যদি এমন ভাবে বলতেন যে আল্লাহ্ মানুষকে পরোয়াই করেন না। তারা চাক বা না চাক তাতে তাঁর কী!

এবার আসি সালাহ্ শব্দটি নিয়ে, এটা অতীতকাল। ইযা ইয়াস আলু ও বলা যেতে পারে। যেটা দিয়ে বর্তমানকাল করে বুঝায়। ইযা অতীতকাল এবং বর্তমান কাল এই দুই ক্রিয়ার সাথেই ব্যবহার হয়। যখন বর্তমানকালের সাথে ব্যবহার হয় তারমানে বার বার বুঝায়। মানে যদি বোঝানো হতো 'যখন আমার দাস আমার সামনে বারবার জিজ্ঞেস করে' তখন হত ইযা ইয়াস আলুকা কিন্তু আয়াতে বলা হয়েছে ইযা আস আলাকা এটা অতীতকালের ক্রিয়া। শুধু কোন কিছু একবার হয়েছে সেটাই বুঝায়। এর মানে আল্লাহ্ বুঝাচ্ছেন আমি আমার দাসের জন্য অপেক্ষা করছি সে যেন যদি একবারও আমার কাছে চায় আমি অনেকবারের জন্য না তার একবারের ডাকের জন্য অপেক্ষা করছি। এরপর বলছেন সা'আলাকা তারা আপনাকে রসূল (সা.) কে জিজ্ঞেস করবে। কোন কোন সাহাবী বলতেন আমি আল্লাহ্ সম্পর্কে আরো জানতে চাই তো কাকে এই জিজ্ঞেস করবেন?এরপর আল্লাহ্ বলেছেন সালাকা ইবাদি বলেন নি যে সালাকা হা উলা সালাকাল্লাযীনা আমানু।

যারা বিশ্বাস করে তারা জিজ্ঞেস করলে 'সালাকাল মুমিনুন' মুমিন বান্দারা জিজ্ঞেস করলে 'সালাকাল মুসলিমুন আসহাবু।' তিনি বলছেন 'ওয়া ইযা আস আলাকা ইবাদি' আমার দাসেরা। উনি বলেননি যে যে ইবাদুনা বা ইবাদুল্লাহ শেষের ই দিয়ে বুঝায় আমার দাস

আল্লাহ কোরআনে সে, তোমরা, আমি শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন। বিভিন্ন সময় কখনো উনি আমি শব্দ ব্যবহার করেন, কখনো উনি আমি শব্দ ব্যবহার করেন যখন হয়ে উনি বেশি ভালোবাসা অথবা বেশি রাগ প্রকাশ করেন শুধু এই দুই প্রেক্ষাপটে আপনি যদি কোরআনের একটি আয়াত পড়েন যাতে আমি ব্যবহার করেছি। সেক্ষেত্রে দেখবেন হয়ে আল্লাহ অসম্ভব ভালবাসা দেখিয়েছেন অথবা প্রচন্দ রাগ দেখিয়েছেন। সাধারণ কোনো ক্ষেত্রে সেরকম হয়নি সেটা হচ্ছে এমন আয়াত যাতে অসম্ভব ভালবাসা দেখিয়েছেন তাই তিনি বলছেন ইবাদি। ইবাদুনা বলেননি আমার দাস বলেছেন আমরা অনেক সময় আমাদের কাছের কেউ দূরে থাকলেও বলি আমার ভাই, আমার বোন, আমার বাবা, আমার মা এর মানে এই না যে আপনি ওদের মালিক। এ দিয়ে তাদের প্রতি আপনার ভালোবাসাটা প্রকাশ পায় যখন আপনি কারও জন্য ব্যবহার করেন। এক্ষেত্রে তারা হচ্ছে আল্লাহর দাস এমন হতে পারে এরা হয়তো আপনার ইবাদত‌ই করেনি। এখন তারা কার কাছে জিজ্ঞেস করেছিল? দেখি আপনাদের মনোযোগ কেমন আছে? তারা কি আল্লাহর কাছে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিল নাকি রাসূল (সা.) এর কাছে জিজ্ঞেস করেছিল। তারা রাসূল (সা.) এর কাছে জিজ্ঞেস করেছিল। এখন আমি অর্থটা আবার বলি। যখন তারা আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে তাহলে তাদেরকে বল আমি নিকটে। আয়াতে কিন্তু বলা হয়নি তাদেরকে বল, আয়াতে বলা হয়েছে ফা ইন্নি কারিম। যখন তারা আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে তখন আমি একদম কাছে। কোন জিনিসটা বলা হয়নি তাদেরকে বল তাকুল্লাহু মিন্নি কারিম। কিন্তু এখানে কোনো তাকুল্লাহ নেই কেন? লোকজন রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে জিজ্ঞেস করতে এসেছিল। হয়না আমাদের সময় লোকজন আলেমদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে; আল্লাহ কি আমার দোয়া শুনবে, আমার অনেক ভুল হয়, আমার অনেক নামাজ বাদ গেছে। আল্লাহ কি তারপরেও আমার দোয়া শুনবেন, আল্লাহ কি আমাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে? এগুলো মানুষ আলেমদেরকে জিজ্ঞেস করে আর এই ক্ষেত্রে সাহাবীরা রাসূলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞেস করেছিলেন। আল্লাহ নিজেই সরাসরি উত্তর দিলেন। উনি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে দিয়ে নয় বরং উনি আপনার সাথে আপনার সাথে আমার সাথে সরাসরি কথা বলা শুরু করলেন; 'আমি এত কাছে যে আমি তোমার সাথে কথা বলছি, আমি এমন কি রাসূল (সা.) বলছি না যে তোমার সাথে কথা বলতে আমি সরাসরি তোমার সাথে কথা বলব। এখানেই কুরআনের সৌন্দর্য। লোকজন রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে জিজ্ঞাসা করতে আসলো আর আল্লাহ বলেননি যে আপনি ওদেরকে গিয়ে বলুন বরং উনি ঠিক করলেন যে উনি নিজেই বলবেন। আমি খুব কাছে। তুমি আমাকে বিশ্বাস করো না কেনো আমি বললাম তুমি বিশ্বাস করো না।বললাম ইন্নি শব্দটার কারণে ইন্নি মানে বাংলায় অবশ্যই কোন কিছু নিঃসন্দে বুঝাতে ইন্নি শব্দটা ব্যবহার হয়। তাই কেউ যদি কোন ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে তখন ইন্না ব্যবহার করা হয়। এখানে আল্লাহ্ বলেছেন কখনোই আমি কাছে নেই এই সন্দেহ করো না কেন তুমি সন্দেহ করছো যে আমি কাছে নেই, কেন তুমি ভাবছো যে আমি দূরে সরে যাব? তুমি আমার থেকে দূরে সরে গেছো আমি না তুমি দূরে সরেছো, তুমি আমার অবাধ্য হয়েছে, তুমি আমাকে ভালোবাসা বন্ধ করেছ, আমি কখনো তোমাকে ভালোবাসা বন্ধ করিনি। তুমি দূরে সরেছো আমি সরিনি আমি সবসময় কাছে ছিলাম।

আবার কারিফ শব্দটা কারিফ হচ্ছে ইশনুসিফা। যার অর্থ আমি সবসময় আছি, পুরো বাক্যটা দাঁড়ায় অবশ্যই আমি সবসময় আছি। আমার দাস এটা জানুক আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে আল্লাহর কতগুলো নাম আছে? অন্তত ৯৯ টা। কত সুন্দর সুন্দর নাম আল্লাহর তাই যখন মানুষ জিজ্ঞেস করল আল্লাহ সম্পর্কে তখন তাদেরকে আল্লাহর কোন নামটা সবচেয়ে বেশি বলা জরুরী, মানে কোন গুণটা? যে উনি একদম কাছেই, কারন যখন উনি কাছে আছেন আমাদের জন্য উনার সাথে কথা বলার সহজ হয়। কেউ যখন দূরে থাকে তখন আমরা তার সাথে কথা বলি না, আর যখন কাছে থাকে তখন আপনি তার সাথে কথা বলতে পারেন। যখন কেউ কাছে থাকে আপনি তাকে সম্মান করেন, বুঝা গেল। আচ্ছা এখানে  কয়জন বাচ্চা স্কুলে আছে? চারজন। বাকিরা কি করে? আচ্ছা যাইহোক, যদি আপনি স্কুলে থাকেন আর টিচার ক্লাসরুমের বাইরে দিয়ে হেটে যায় তখন আপনি কি আপনার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসে নাকি আসে না? মিথ্যা বলবেন না আপনি এখন মসজিদে আছেন, বাইরে গিয়ে মিথ্যা বলুন। না না আমি জাস্ট মজা করলাম। যখন টিচার আপনার কাছে থাকে তখন আপনার ব্যবহার একরকম হয়। ধরুন, আপনি একটা পরীক্ষা দিচ্ছেন টিচার হেঁটে বেড়াচ্ছে আপনি কি আপনার পরীক্ষার খাতা একটু ঢেকে ফেলেন না? এমনকি ছায়া দেখলেও কেঁপে উঠেন। বিশেষত উনি যদি আপনার টেবিলে হাত রাখে আর আপনার খাতার দিকে তাকিয়ে একটু 'হুমমমমম' আহাহাহা মালাকাল ম‌উত! আমি আমার স্টুডেন্টের সাথে এরকম করি কারণ আমি তাদেরকে মানসিকভাবে টর্চার করতে পছন্দ করি, এটাই টিচিং এর সবচেয়ে বড় মজা। আপনি তাদেরকে নিয়ে খেলতে পারেন। আল্লাহ বলছেন যদি আমার দাস আমার সম্পর্কে জানতে চায় তাহলে বলুন আমি একদমই কাছে আছি। কেউ যখন কাছে থাকে আপনি যখন আশেপাশে পুলিশ অফিসার দেখেন আপনি অন্য রকম আচরণ করেন। আপনি যখন দেখেন আপনার বস পাশে আছে, যখন জানেন টিচার কাছে আছে আপনি ভিন্ন আচরণ করেন। যখন দেখেন আপনার মা পাশে আছে বন্ধুদের সাথে ভিন্ন ভাবে কথা বলেন, যখন সে অন্য রুমে যাই তখন হয়তো আপনার বন্ধুর মুখে ঘুষি মেরে নেন এই ধরনের কিছু করেন। যখন আপনি অনুভব করবেন যে আল্লাহ নিকটে তখন আপনি সবসময় এর জন্য একদম ভিন্ন মানুষ হয়ে যাবেন। কারণ তিনি সবসময়ই কাছে।

আলোচনা:

নোমান আলী খান

আমাদের জন্য আল্লাহর ভালোবাসা


1 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
নবীনতর পূর্বতন